April 19, 2026, 11:52 pm

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সুদখোরের বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

খুলনা ব্যুরো:ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানায় সুদখোর হিসেবে পরিচিত মো.জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে গত রবিবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মোছা সাহিদা খাতুন (৩৮) নামের এক নারী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, “প্রায় দুই বছর  আগে  হরিহারা গ্রামের মো. ইখতারের স্ত্রী সাহিদা একই গ্রামের জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি ওই টাকার মূল পরিমাণসহ সুদ পরিশোধ করেন।

তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীর হোসেন আরও ৯৪ হাজার টাকা দাবি করতে থাকেন। সাহিদা অভিযোগ করেন যে, তাকে হুমকি দেওয়ার পর তিনি ভয়ে তাকে এক লক্ষ টাকা প্রদান করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে জাহাঙ্গীর সাহিদার বাড়িতে গিয়ে আবারও ওই টাকার দাবি করেন। সাহিদা টাকা দিতে অপারগতা জানালে জাহাঙ্গীর তাকে অপমান করেন।

এরপর ২৪ অক্টোবর, সাহিদার ছেলে সুবানের সাথে দেখা হলে জাহাঙ্গীর তার কাছেও টাকা দাবি করেন এবং অস্বীকৃতি জানালে হুমকি প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে সাহিদা জানান, আনুমানিক ০২ বছর পূর্বে সুদে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা ধারে নিই।পরবর্তীতে আমি তাঁর আসল টাকাসহ সুদ পরিষোধ করি।পরে সুদখোর জাহাঙ্গীর আমার কাছে  টাকার দাবী করে খুন জখমের হুমকি দিলে আমি ভয়ে তাঁকে আরো ১ লক্ষ টাকা প্রদান করার পরেও পরবর্তীতে  আমার নিকটে আরো ৯৪ হাজার টাকার দাবী করে আসছে।এরই ধারাবাহিকতায় (২৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ০৮.০০  টার সময় সুদখোর জাহাঙ্গীর  আমার বাড়ীর উপরে আসে এবং আমার নিকটে উক্ত ৯৪ হাজার টাকা দাবী করে, আমি  টাকা দিতে অপারকতা জানালে আমাকে পূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। পরের দিন (২৪ অক্টোবর) আনুমানিক দুপুর ১.৩০ মিনিটের সময় শৈলকুপা বাজারে আমার ছেলে সুবান এর সাথে জাহাঙ্গীরের দেখা হলে আমার ছেলের নিকটে টাকা দাবী করে। তখন আমার ছেলে টাকা দিতে অস্বীকার করায় জাহাঙ্গীর আমার ছেলেকে যেখানে পাবে সেখান থেকে ধরে খুন জখম করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার (ওসি) তদন্ত অফিসার  এস.এম. রিয়াজুল হাসান বলেন, “এই বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে”। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা